স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে বিপুল আগ্রহ তৈরি করে মার্কিন সরকারের গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভার্সিটি ভিসা (DV) প্রোগ্রাম। সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল আদালতের একটি নতুন নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে জোর গুঞ্জন ও তোলপাড় চলছে—"বাংলাদেশিরা কি এবার ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবেন?"
একজন অভিজ্ঞ কনটেন্ট এনালিস্ট হিসেবে আমি বিগত কয়েক বছরে ডিভি লটারি নিয়ে শত শত বিভ্রান্তিকর তথ্য ও স্ক্যাম ছড়াতে দেখেছি। তাই আজকের ব্লগে আমরা কোনো রকম গুজব ছাড়া, ডিভি লটারি ২০২৭ (DV-2027)-এর যোগ্যতা, আবেদন ফি, আদালতের নতুন রায় এবং বাংলাদেশের সুযোগ পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে এ টু জেড (A to Z) একদম অফিশিয়াল তথ্য আলোচনা করব।
ডিভি লটারি (DV Lottery) আসলে কী?
ডাইভার্সিটি ভিসা বা ডিভি লটারি হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট (1990 Immigration Act) অনুযায়ী পরিচালিত একটি বিশেষ বার্ষিক অভিভাষণ কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা কম, সেসব দেশের নাগরিকদের লটারির মাধ্যমে বেছে নেওয়া এবং প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫,০০০ স্থায়ী গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া।
বাংলাদেশ কি এবার আবেদন করতে পারবে? আসল সমীকরণটি বুঝুন
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এবং কোটি টাকার বিতর্ক হলো, বাংলাদেশিরা কি এবার সুযোগ পাবেন? এর উত্তর জানতে হলে মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের একটি বিশেষ ধারা আপনাকে বুঝতে হবে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, বিগত ৫ বছরে যে দেশ থেকে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষ বৈধভাবে (চাকরি, ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে) যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হয়েছেন, সেই দেশগুলো ডিভি লটারির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য বা Exclusion তালিকায় চলে যায়। এই গাণিতিক নিয়মের কারণেই ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ডিভি লটারির যোগ্য দেশের তালিকায় নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আদালতের রায়: যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের (২০২৬) মধ্যে ডিভি ২০২৭-এর আবেদন শুরুর অফিশিয়াল সময়সূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে এবং ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন চালু হওয়ার কথা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আপিল করেছে এবং এটি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছে।
যেহেতু DV-2027 এর চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকা এখনও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তাই আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অযোগ্য থাকবে, নাকি নতুন কোনো চমক আসবে—তা নিশ্চিত হতে ২৯ অক্টোবর চূড়ান্ত অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে। এর আগে কেউ সুযোগ পাওয়ার দাবি করলে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
🎥 ভিডিওর মাধ্যমে বিস্তারিত জানুন (ভিডিও গাইড)
ডিভি লটারি ২০২৭ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউজ চ্যানেলের বিশেষ প্রতিবেদনটি নিচে এম্বেড করা হলো, যা আপনাকে পুরো আইনি জটিলতা ও বিষয়টি আরও সহজে বুঝতে সাহায্য করবে:আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়ম (যদি বাংলাদেশ সুযোগ পায়)যদি চূড়ান্ত অফিশিয়াল তালিকায় বাংলাদেশ যোগ্য দেশ হিসেবে স্থান পেয়েই যায়, তবে আবেদন করার জন্য আপনার নিচের প্রধান শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

Post a Comment
If you any Question, Please contact us.